বিভিন্ন প্রকার খতিয়ান (CS, SA, RS) চেনার উপায়
Info বিস্তারিত তথ্য (Detailed Information)
সিএস (CS) খতিয়ান: এটি ব্রিটিশ আমলে করা প্রথম জরিপ। এটি আড়াআড়ি লম্বা (Vertical) এবং সাধারণত দুই পৃষ্ঠার হয়। এর প্রথম পৃষ্ঠায় উপরে জমিদারের নাম এবং নিচে প্রজার নাম থাকে। দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় 'উত্তর সীমানা' নামে একটি কলাম থাকে যা অন্য কোনো খতিয়ানে নেই।
এসএ (SA) খতিয়ান: পাকিস্তান আমলে ১৯৫৬-৬২ সালে এটি করা হয়। এটি লম্বালম্বি (Horizontal) বা চওড়া আকারের হয় এবং সাধারণত এক পৃষ্ঠার। এটি হাতে লেখা এবং অনেক সময় অস্পষ্ট থাকে। এর একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো 'সাবেক খতিয়ান' এবং 'হাল খতিয়ান' নম্বর পাশাপাশি থাকে।
আরএস (RS) খতিয়ান: এসএ খতিয়ানের ভুল সংশোধনের জন্য এটি করা হয়। এটি সিএস খতিয়ানের মতোই দুই পৃষ্ঠার এবং আড়াআড়ি লম্বা (Vertical)। এর দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় 'উত্তর সীমানা দখলকার' এর নাম থাকে এবং প্রথম পৃষ্ঠার নিচে 'ধারা ১০৫, ১০৬, ১০৮ বা ১০৯' উল্লেখ থাকে।
বিএস (BS) বা বিআরএস (BRS) খতিয়ান: এটি বর্তমানের আধুনিক ও ডিজিটাল খতিয়ান। এটি চওড়া (Horizontal) আকারের হয় এবং বর্তমানে এটি কম্পিউটার টাইপ করা অবস্থায় পাওয়া যায়। এতে 'সাবেক দাগ' এবং 'হাল দাগ' উভয়ই উল্লেখ থাকে।
ফি সংক্রান্ত তথ্য (Fees & Charges)
খতিয়ানের সার্টিফাইড কপির জন্য সাধারণত কোর্ট ফি ১০/- টাকা এবং অন্যান্য প্রসেসিং ফি সহ ৪৫/- থেকে ১০০/- টাকা খরচ হয় (এলাকাভেদে ভিন্ন হতে পারে)। বর্তমানে অনলাইনে ই-পর্চা (eparcha.gov.bd) থেকে আপনি নামমাত্র ফিতে খতিয়ান সংগ্রহ করতে পারেন।
FAQ সাধারণ জিজ্ঞাসা (Frequently Asked Questions)
Q: সিএস এবং আরএস খতিয়ানের প্রধান পার্থক্য কি?
সিএস খতিয়ানে জমিদারের নাম থাকে, কিন্তু আরএস খতিয়ানে জমিদারের নামের পরিবর্তে সরাসরি মালিকের নাম থাকে। এছাড়া আরএস খতিয়ানে '১০৫-১০৯' ধারা উল্লেখ থাকে।
Q: এসএ খতিয়ান কেন গুরুত্বপূর্ণ?
জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির পর এই খতিয়ানের মাধ্যমেই প্রজারা সরাসরি সরকারের অধীনে আসে, তাই মালিকানার চেইন বা বায়া দলিল যাচাইয়ে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Q: কোন খতিয়ানটি আদালতে বেশি শক্তিশালী?
আরএস খতিয়ান সরেজমিনে তদন্ত করে করা হয়েছিল বলে এটি আদালতে মালিকানা প্রমাণের জন্য সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য বলে গণ্য করা হয়।