দলিল আসল না নকল চেনার উপায়
Info বিস্তারিত তথ্য (Detailed Information)
আসল দলিল (Original Deed): এটি উচ্চমূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লেখা থাকে। এতে ক্রেতা, বিক্রেতা ও সাক্ষীদের মূল স্বাক্ষর ও টিপসই থাকে। দলিলের শেষ পৃষ্ঠার উল্টো পিঠে ভলিউম নম্বর, পৃষ্ঠা নম্বর ও বছর উল্লেখ থাকে।
নকল বা সার্টিফাইড কপি (Nokol): এটি সাধারণত সাধারণ কাগজে বা কম মূল্যের স্ট্যাম্পে থাকে। এতে মূল স্বাক্ষর থাকে না, বরং নকলকারী মোহরার ও সাব-রেজিস্ট্রারের প্রত্যয়ন সীল ও স্বাক্ষর থাকে। এটি মূলত মূল দলিল হারিয়ে গেলে বা ভেন্টিংয়ের জন্য তোলা হয়।
বালাম বই যাচাই (Balam Book): দলিলের সত্যতা শতভাগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে বালাম বই বা রেজিস্ট্রি ভলিউম চেক করতে হয়। দলিলের নম্বর, সাল ও অফিসের নাম দিয়ে তল্লাশ (Search) দিলে বালাম বইয়ের তথ্যের সাথে দলিলের তথ্য মিলে গেলেই তা আসল হিসেবে গণ্য হবে।
স্ট্যাম্পের তারিখ: দলিলের স্ট্যাম্পটি কোন তারিখের কেনা তা খেয়াল করুন। যদি স্ট্যাম্প কেনার তারিখ দলিল সম্পাদনের তারিখের পরে হয়, তবে সেটি নিশ্চিতভাবে জাল দলিল।
ফি সংক্রান্ত তথ্য (Fees & Charges)
সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল তল্লাশ (Search) করার জন্য সামান্য সরকারি ফি (সাধারণত ২০-৫০ টাকা) এবং সার্টিফাইড কপির জন্য পৃষ্ঠা প্রতি নির্ধারিত ফি প্রদান করতে হয়। তবে আইনজীবীর মাধ্যমে এই কাজ করালে তাদের সার্ভিস চার্জ যুক্ত হতে পারে।
FAQ সাধারণ জিজ্ঞাসা (Frequently Asked Questions)
Q: বালাম বইয়ে যদি দলিলের তথ্য না পাওয়া যায় তবে কি হবে?
যদি বালাম বইয়ে তথ্য না পাওয়া যায়, তবে বুঝতে হবে দলিলটি ভুয়া বা রেজিস্ট্রি হয়নি। এমন জমি কেনা থেকে বিরত থাকুন।
Q: আসল দলিলে কি কি সনাক্তকরণ চিহ্ন থাকে?
আসল দলিলে সাব-রেজিস্ট্রারের গোল সীল, স্ট্যাম্পের ক্রমিক নম্বর, এবং বিক্রেতার ছবি ও এনআইডি নম্বর থাকে যা সাব-রেজিস্ট্রার কর্তৃক সত্যায়িত।
Q: সার্টিফাইড কপি দিয়ে কি জমি বিক্রি করা যায়?
মূল দলিল হারিয়ে গেলে সাধারণ ডায়েরি (GD) এবং সার্টিফাইড কপি দিয়ে বিক্রি করা সম্ভব, তবে এক্ষেত্রে ক্রেতাকে বালাম বই থেকে তথ্যের সত্যতা কঠোরভাবে যাচাই করে নিতে হবে।
Q: দলিলের বায়া দলিল কি?
বর্তমান মালিক যার কাছ থেকে জমিটি কিনেছেন বা পেয়েছেন, সেই পূর্ববর্তী দলিলগুলোকেই বায়া দলিল বলে। মালিকানার চেইন বা ধারাবাহিকতা বুঝতে এটি অত্যন্ত জরুরি।